Skip to main content

Posts

*আভা

যে হৃদয় কভু ভালো বাসতে পারে  সে হৃদয় তবু বাসে না ভালো যে হৃদয়ে মোহ আসতে পারে সে হৃদয়ে কভু আসে না আলো। যে হৃদয়ে গল্প ভুলে যাওয়া নয় সে হৃদয় কভু বলে না কিছু,  যেই সুরে বাণী আলো আভাময় সেই সুর তবু হলো যে নিচু। যে হৃদয় বীণায় কথা কিছু টুটে  মিলে যায় নীলিমায়, সে হৃদয় বুজে সুর কিছু ফোটে যায় ছুটে মহিমায়। ~নাহিয়ান
Recent posts

অলেখ্যগড়ের রাজা,শেষ পর্ব

  সরফরাজের চোখের কোণে এক ফোঁটা জল টলটল করে গড়িয়ে পড়ল। সেটা যন্ত্রণার চেয়েও বেশি ছিল বিশ্বাসের অপমৃত্যুর। তিনি বিড়বিড় করে বলতে চাইলেন— "চন্দ্রিমা... তুমিও?" কিন্তু কণ্ঠস্বর আটকে গেল জমাটবদ্ধ রক্তে। ​চন্দ্রিমা ঘোড়া থেকে নেমে ধীর পায়ে সরফরাজের রক্তাক্ত দেহের পাশে এসে দাঁড়ালেন। তার পরনে এখনো সেই আধপোড়া রাজকীয় পোশাক, কিন্তু চোখে কোনো দয়া নেই।  তিনি বলতে শুরু করলেন, "পিতা জানতেন, সম্মুখ সমরে অলেখ্যগড়কে হারানো অসম্ভব। তাই তিনি আমাকে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। তোমার সাম্রাজ্য বিস্তারের যে বুদ্ধি আমি তোমাকে দিতাম, সেগুলো ছিল আসলে আমার পিতার পাতা এক একটি ফাঁদ। তোমার অজেয় দুর্গ আজ ভেতর থেকেই ফেটে পড়েছে, সরফরাজ।" ​ঠিক সেই মুহূর্তে দুর্গের বাইরে থেকে আকাশ ফাটানো চিৎকার শোনা গেল। অলেখ্যগড়ের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ছে অমরনগরের বিশাল বাহিনী। বিশ্বাসঘাতক সেনাপতিরা ততক্ষণে অস্ত্র নামিয়ে ফেলেছে। ​সরফরাজ অস্ফুট স্বরে বললেন, "আমি... আমি তোমায় ভালোবেসেছিলাম... আমার সাম্রাজ্যের চেয়েও বেশি..." ​চন্দ্রিমার হাতের ধনুকটা কেঁপে উঠল। এক মুহূর্তের জন্য তার পাথুরে চোখে মেঘ জমল। তিনি...

অলেখ্যগড়ের রাজা

মহারাজের চেহারায় কেমন যেন দুশ্চিন্তার ছাপ। নাম তার সরফরাজ। সরফরাজ অলেখ্যগড়ের রাজা। তার রাজত্বে সার্বভৌম অলেখ্য সাম্রাজ্য। চৌদ্দ বছর বয়সেই তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন। নানা ঘাত-প্রতিঘাত, ষড়যন্ত্রের মধ্যেও তিনি প্রজ্ঞার বলে টিকিয়ে রেখেছেন তার অলেখ্য সাম্রাজ্য। কিন্তু আজকের মতো কঠিন পরিস্থিতি তার আগে কখনো হয়নি। ​সরফরাজের হাতে চিঠি। রাগে ক্ষোভে ফুঁসছেন তিনি। দরবারের মন্ত্রীদের মনে নানা উৎকণ্ঠা। প্রধান কুতুব আর তর সইতে পারলেন না। —অমরনগরের রাজাকে আজ শিক্ষা দিতে হবে, কঠিন শিক্ষা। অলেখ্যগড়ের সম্রাটের দূতকে সে হত্যা করেছে। আজ তাকে শিক্ষা দিতে হবে। দ্বিতীয় অমাত্য আবার রাজার রাগ সংবরণ করার জন্য আসলেন এগিয়ে। —মহারাজ, আপনি খুবই দয়ালু। আপনি এমন কঠিন পরিস্থিতিতে অমরনগরে আক্রমণ করা মোটেও ঠিক হবে না। তার নগরের নিরীহ মানুষদের হত্যা করা কোনোভাবেই উচিত হবে না। ​সম্রাট সরফরাজ এতক্ষণ পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। লম্বা আলখাল্লায় সূক্ষ্ম সুতার কারুকার্য। রেশমী কাপড়ের হাতায় হাত বুলালেন তিনি। ধীর পদক্ষেপে আসলেন দ্বিতীয় অমাত্যের নিকট। আর তৎক্ষণাৎ ফিরে মুষ্টিবদ্ধ হাত ছুটল তার দিকে। ​ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটে পড়ল সরফরাজের চে...

একটুখানি আগুন

তখন ছিল শীতকাল।অন্যান্য বছরের চেয়ে সে বছর শীত একটু বেশিই পড়েছিল।কুয়াশায় চারপাশটা আচ্ছন্ন করে রাখে।হাড় কাঁপানো শীতে মানুষ,পশু-পাখি, জীব-জন্তু সবার জীবন সংকটাপন্ন।  এমনই সংকটে পড়েছিল একটি কাক।প্রচন্ড ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে মানুষ যখন সোয়েটার, জ্যাকেট আর কম্বল নিত তখন কাক কাঁপত শীতে।কাক বেচারা ছিল খুবই গরিব।তার সোয়েটার কেনার টাকা নেই।এমন এক পরিস্থিতিতে একটু আগুন পোহানোর ব্যাপারটা নেহাত মন্দ না।যেই ভাবা সেই কাজ।কাকটি উড়ে গিয়ে অনেক কষ্টে গ্রামের একমাত্র কামারের কাছে গেল।গিয়ে দেখে ঘরের দরজা বন্ধ।  —ও কামার ভাই,ঘরে কি আছো? —এই কে রে?এত সকালে হইচই কেন করছিস? —কামার ভাই,আমি কাক। আপনার কাছে একটু আগুন নিতে আসছি।যে শীত পড়ছে আজকাল। "ওহ,তাই বল", কামার মশাই দিশা পায় এতক্ষণে," তো আগুন নিবি,এই কি বড় জিনিস"।জলন্ত এক টুকরো কয়লা লোহার কাঠিতে নেয় আর বলে, "এই দেখি,নে আগুন। হাত পাত" —কামার ভাই, আমার তো হাত নেই।এ কাজ করি ঠোঁটে নিই। —নিবি?এই তাহলে নে। কয়লার টুকরাটা নিতে গিয়েই ঠোঁটটা জ্বলে গেল। কাক কাঁতরে বলল,"ওরে বাবা।পুড়ে গেলাম।" কাক এবার অনেক চিন্তা করে—আগুন তো নিতেই ...

কোরাস

টেবিলটা কেমন জানি এবড়োখেবড়ো, টুলটাও একটু খাপছাড়া। মার্জিনকরা সাদা খাতা দেখতে বিরক্ত লাগছে অনেক।আচ্ছা আজ কি না লিখলেই নয়?সারাজীবন তো লিখেই আসলাম।দায়িত্ববোধ না হয় আজ থাকুক টেবিলে। ছোট্ট একটা টেবিল,পাশের দেয়ালটাকে জায়গা দিয়েছে এট্টুক।—নাহ,আর লিখব না।জানালার চৌকাঠ পেরিয়ে গাছের চূড়ায় চোখ যায়। তিনতলা থেকে গাছের গুঁড়ি তো দেখা যায় না তেমন।ডালের ফাঁকে পাখিদের বাসা—খড়খুঁটো দিয়ে বোনা। হয়তো টুনটুনির হবে। তিনটা বাসা।কেমন অবলীলায় গাছের ডালের ফাঁকে আটকে রয়েছে! আচ্ছা বৃষ্টিতে তো পাখিরা ভিজে যাবে,পাখিদের তো রেইনকোট নেই।ঠান্ডায় হয়তো কাঁপতে কাঁপতে বিল্ডিং এর কার্নিশে এসে দাঁড়াবে,গান করার আর ইচ্ছে রবে না তখন। অডিটোরিয়াম থেকে গানের কোরাস ভেসে আসছে।—নাহ,আর লেখা যাচ্ছে না।বাংলা দ্বিতীয় এর বানান,উচ্চারণ আর সমাস লিখতেই মাথা ঘুরে যাচ্ছে, তার উপর আবার গানের কোরাস।গাছের ডালে একটি পাখি এসে বসেছে।গাছের পাতা একটু দুলল,নাকি মনের ভ্রম? কলমটা হাতে রয়েই গিয়েছে। হাত ঘামাচ্ছে।রচনামূলক অংশ লেখা এখনও বাকি।কিন্তু লিখতে ইচ্ছে করছে না।—আচ্ছা দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের গরুত্ব,থুক্কু গুরুত্ব লিখতে গেলে কার কার কবিতা দেয়া যায়?কাজী...

ভুলোমন খাতা

কতো যে কথা ছিল বলার তবুও হয়নি কখনো বলা, তীর্থ ছিল একি পথ চলার তবু হয়নি কখনো চলা, কত সুর ছিল যে নেওয়ার তবু হয়নি কখনো নেওয়া, কতো কথা ছিল যে দেওয়ার তবু হয়নি কখনো দেওয়া।  কবিতা লেখার কথা ছিল খুব,একটু লিখি নি তবু, মানুষ বোঝার ত্রিকোণোমিতি—একটু শিখিনি কভু। গল্প বলার অল্প সময়, ছিল না সময় শোনার, হারালো কবিতা, ভুলোমন খাতা স্বপ্ন খানিক বোনার। কাগজ উড়ছে বাতাসের মাঝে, মনটা উদাস ফের, হৃদয় পুড়ছে দুঃখ রৌদ্রে আর কোনো আভাসের। শহর ভুললে,নগর ভুললে,অশ্রু নহর কেমন বোধন, আসলো বাহার হৃদয়ে যাহার অশ্রু তাহার কেমন যাতন। আগাম আসলো,আপন আসলো,আনন দুঃখী ফের কেন? সকল গল্প তাইতো স্বল্প কাহিনি কাব্য হয় যেন। সবুজের ছিল অবারিত দান,পাখিদের ছিল কলতান, আপনার ছিল মনোহর গান,আগামীর আহ্বান। কতো কথা ছিল বলার তবু হয়নি কখনো বলা, কতো পথ চলা ছিল বাকি তবু হয়নি কখনো চলা।

মেঘজাল

আকাশের নীলে মেঘ নিল ঠাঁই তন্দ্রা কেমন নেমে আকাশের পথে জলকণা আনে মেঘজাল কিছু ঘেমে। শীতল সমীর বহিছে কেমনি,আভাসেই বারিধারা, প্রকৃতির এত অবারিত দান মন ভুলে পেল কারা? ধূসরিত মাঠ ছাপিয়ে জেগেছে সবুজাভ কিছু লেখা, আপন হৃদয়ে কিছু কথা ছিল,পিছু পিছু তাই দেখা। নিশাস যেমনি হৃদপটে আনে হারানোর কিছু সুর, তেমন দৃশ্য প্রকৃতিও আঁকে,সে তো কভু নয় দূর। নিসর্গে কেন জাগছে দৃশ্য আপন খেয়াল রূপে, সুরভি ছড়ালো চারদিকে ছেয়ে বেখেয়ালি মন ধূপে। নীলাভ আকাশে মেঘ নিল ঠাঁই তন্দ্রা কেমন নেমে, হৃদয় আকাশে মেঘ নিল ঠাঁই,মন্দ্রা কেমন প্রেমে; Photo:Gemini

তৃষাহরা

  জীবন এমনি নিঠুরিয়া কেন,পুড়ি শুধু আক্ষেপে, আসুক একটু দুঃখ অনলে বৃষ্টির ধারা ঝেপে। অগ্নি স্বরূপ বলিতে কখনো দুঃখের ধরি নাম, জীবনের নদী কূলহারা যেন এই ছিল পরিণাম। জীবনের বাঁকে বিরহ-দুঃখ,অকূলেতে খুঁজি কূল, বেভুল পথের পথিক বুঝেছে,হায়!জীবনের পুঁজি ভুল। হৃদয়ের মাঝে ভালো যাই ছিল প্রতিকূলে ধূসরিত, ভালো কিছু তবে যাক,মরে যাক;হৃদ হোক তুষারিত।   মন্দেরা তবে এসো জড়ো হোক,হেরিবে তো ধরাকূল, প্রত্যুত্তর ধ্বনিবে ধরাতে,পথ ভুলে তো আকুল। মোর হৃদয়ের দুখিনী কাব্য এই তবে তৃষাহরা? নিষাদেরা তবে সুর খুঁজে পাক,শেষ হোক মনোহরা। তৃষিত হৃদয় হরিৎ আভাসে দিশা তবে খুঁজে পাক, তব আপনার সকল কাব্য আনমনে বুজে যাক। ✍️:নাহিয়ান

*তোমার গল্প

তোমার গল্প গল্পের মতো থাক কাহিনি সেসব না শুনুক কেউ, সত্তা তোমার শুধু আনমনা থাক, বিস্মৃত কথা না বলুক কেউ। তোমার গল্প কাব্যের মতো নয়, কবিতা যে কথা আপনা আপনি বলে এ ভাবনা যেন আনিছে কেবলি ভয়, খেয়ালী মনের কবিতার দোলাচলে। সকল কাব্য ভুল হয়ে যাক, তবে  একটি না হয় থাকুক যত্নে খুব, যে কাব্য বলে,"উদার আকাশ হবে, মুক্ত কপোত গুঞ্জিত,নেই লোভ।" সকল কাব্য হারিয়ে যদিও যায়, দুঃখ কখনো আসিবেনা এই মনে, অনুতাপ শুধু আসিবে হৃদয়ে,হায়, শব্দের মালা ধ্বনিবে যে গুঞ্জনে। তোমার গল্প গল্পের মতো থাক কাহিনি সেসব না জানুক কেউ, পাখিদের গান,দূরে ওই হাকডাক, দুঃখ অনলে থাক বিরহের ঢেউ। ✍️:কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান  ২৫.১২.২৫

প্রকৃতির পত্র

চলিয়া গিয়াছে যেবা হৃদয় হইতে, আপন দুঃখ কিছু পারেনি সইতে, তাহার ভাষেতে জাগে অনেক আলোক, খানিক আভা তবুও পারিনি লইতে। ঊষার আভাস আনে তাহার কপোল, তাহার ধ্বনি যে মনে জাগাইল দোল, সময় যেন রহিল কেবলি দাঁড়ায়,  তাহার চপলতায় হইল বিভোল। তাহার বচন যেন মায়ার আধার, কবিতা যেন লিখল সে শব্দ বাঁধার, বিরহ কেন এমন বিষম ছায়ায় মনে যাতনা বরষে শুধুই কাঁদার? আমার তরে এ গল্প আপন কাহিনি  কেবল ভেবেছি,সে যে হৃদয় মোহিনি, জ্যোৎস্নাতে যেমন সাজে সকল আকাশ,  প্রকৃতির পত্র আনে সেই নিশীথিনী।  চলিয়া গেল সে,তবে কেনই চপল? জাগাইয়া হৃদে হেন বিরহ অনল, ভাবনাগুলো রহিল এই কবিতার উদাস দাওয়ায়-হায় কেমন বিফল। ✍️:কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান

মহাকাব্যের ভাবনা

 আমার আর কবিতা লিখতে ইচ্ছে করে না ইচ্ছে করে না অপরূপ কোনো ছবি আঁকতে  ইচ্ছে করে না এমন কোনো কিছু বর্ণনা দিতে যা তোমায় বলা প্রয়োজন ছিল। এখন আমি আর কবিতা লিখিনা বলিনা এমন কথা যার দুর্বোধ্যতা তোমায় আহত করে বিচলিত করে বারেবার। আমি এখন আর গাঁথি না এমন গান যার তান তোমায় বিহ্বল করে বিচলতা আনে মনে। এখন আমি আর লিখিনা গল্প  কলমের কালো দাগে যার অনুরাগে কাগজ মলিন কেবলই ধূলোর পাঠে। এখন আমি আর থাকি না মহাকাব্যের ভাবনায়, আনমনে মিলাই না শব্দ  যাই ছিল কেবল তোমার হৃদয় জুড়ে  হয়েছিল যা তোমাতেই নিবেদিত। ✍️:নাহিয়ান 

রং-তুলি

আমার একটি গল্প ছিল,হৃদয় মাঝে রাখা; কবিতারই রংতুলিতে রংধনু সেই আঁকা। সাদার এমন ক্যানভাসে যেই বিষাদ আভাস আসে, নীলের আকাশ হাতছানি দেয় আঁচড় রেখার পাশে। জলের ছাপে ধূসর রেখা যখন ছুটে যায়, মাটির পরম মমতাতে পুঞ্জিত হয় কায়। সবুজ রঙের সমারোহে ঝোপের স্বরূপ জাগে, বিন্দু খানিক তীক্ষ্ণ হলো পাখির অনুরাগে। কালো সবুজ মিশে গিয়ে দিগন্তরূপ আঁকে, তুলির আঁচড় দীর্ঘ হলো গ্রামীণ নদীর বাঁকে। খানিক বাদল সাঙ্গ হলো,জাগছে এবার রোদ, দূরের মাঠে ছেলের দলে করছে যে আমোদ। চড়ুই ভিজে ছন্নছাড়া, কাক তো ঝাঁকায় শির, গৃহস্থ যে ফিরছে ঘরে,চলন তাহার ধীর। একি–আকাশ মাঝে শরৎ মেঘও বিস্ময়ে রয় থ, রামধনুকের চলন সে পথ ফিরছে হয়তো। মেঘরা আসে দীর্ঘশ্বাসে গল্প তারও ছিল, যায় হারিয়ে, দূর আশাতে,কলম তাহায় নিল। এমন গল্প শুনবে না কেউ, হৃদয় মাঝে রাখা, থাক না কিছু গল্প এমন দুঃখ দিয়ে ঢাকা। ✍️:কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান

পিশাচিনী

এক ছিল পোড়োবাড়ি;কয়েকযুগের শেষে ভগ্নপ্রাপ্ত,ধূসর গম্বুজের শীষে গগনবিদারী একটি শূল;তার পাশে চলে গেছে একটি মেঠোপথ, কাছে স্থিরতায় দাঁড়িয়ে রয় ক্ষীণকায় দু'টি শুষ্ক গাছ। সেদিন অমাবস্যার রাত ছিল,চারদিক সুনশান–নিস্তব্ধ ; হঠাৎ ওই পোড়োবাড়িতে কিসের যেন আনাগোনা, ক্রমশ মুখর হয় চারপাশের পরিবেশ। জনাকয়েক বন্ধু শহরে থেকে ফিরছিল, মা-বাবা আর ভাই বোনদের সাথে দেখা করবে অনেকদিন পর।ব্যাগে ছিল বইপুস্তক, হাতে ছিল মায়ের জন্য শাড়ি,বাবার জন্য পাঞ্জাবি আর বোনের জন্য কিছু গহনা। পথ চলছে তারা সেই মেঠোপথ ধরে, সহসা চোখ আটকে গেল তাদের–ওই পোড়োবাড়িতে, ভয় ও আতঙ্কে হলো তারা বিহ্বল। একটি অর্ধবিগলিত মড়ার মাথা খুবলে খাচ্ছে কিছু রাক্ষস এবং তা বাড়িয়ে দিচ্ছে সামনে থাকা পিশাচিনীর কাছে। আগন্তুকেরা আঁতকে ওঠে,ভয়ানক সেই জন্তুদের দেখে; একজনের কাধ থেকে ব্যাগ পড়ে যায়, পরিবারের জন্য আনা স্বপ্নগুলো পড়ে যায় মাটিতে–শব্দ করে। এবার রাক্ষসদের সাথে থাকা পিশাচিনী সজাগ হয়, ইঙ্গিত দেয় তাদের ধরে আনার; সৃষ্টিসুখের আজ হবে মহাভোজ, আনন্দ আর গল্প গীতে। আগন্তুকেরা ভয় পেয়েছে কিন্তু হারায়নি আশা, স্থির দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে করে দুর্বার প্রতিরোধ। মড়ার উচ্ছিষ্টা...

ধোঁয়াশা

পড়ন্ত বিকেলে ধীর পদক্ষেপে চলছি সামনে, শুকনো পাতার আলপনা কিছু সাজানো রয়েছে পথে; চির পরিচিত প্রান্তর এই,সবুজের ছোঁয়া হৃদয়ের আঙিনাতে। আজকে ব্যস্ততা নেই,নেই কোনো চঞ্চলতা  জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যাওয়ার।  এ যেন নিসর্গের নিবিড় দরবার,আমি অভ্যাগত, আমি কেউ নই তাদের নিয়ে বলার। এই আঙিনায় কত স্মৃতি, ব্যস্ততায় হয়নি দেখা, খাঁ খাঁ করে ক্যাম্পাস;গাছ-গাছালি মাঝে ছিল এক —সাইকাস আর ঊর্ধ্বে ছিল বিশাল আসমান।  আজকে আমার এই চলন-সরণ বিজনে-বেখেয়ালে  শুধু সময়ের সমীকরণ খুঁজে বেড়ায়। ইট-পাথুরে দালানের সাথে প্রকৃতির সখ্যতা  হয়েছে কেবল দীঘল সময় তরে। তব কথা মম মনে এমনি সাবলীল,  অতি স্বচ্ছ—শরৎ মেঘের মতো। ভাবনাগুলো কাব্য খুঁজিয়া ফেরে, আপন হইয়াও কেন যেন অপরিচিত।  আপন মনে বোধোদয় হয়,ভাবনাতে অস্পষ্ট ; ধ্বনি তব যেন জাগে সহসাই; সে কথা—যা রহস্য আনে ধোঁয়াশায়, ছড়ালো যে দূর দিগন্তে।

দেশের পতাকা

স্বাধীনতা মানে মন জেগে ওঠা গানে, জাগে মুক্তির কল্লোল শহিদের দানে। স্বাধীনতা শব্দ ভারি,হৃদয়ে রাখতে, অনুভূতি রূপছবি খাতায় আঁকতে। শ্যামল দেশের ছবি প্রেমেতে ভাবায়, মন কেন হরে শুধু, বিকাল বেলায়? স্বাধীনতা গল্প নয় ভুলিয়ে রাখার, স্বাধীনতা প্রেম কিছু ছড়ায় আবার। স্বাধীনতা নয় কভু সে স্বেচ্ছাচারীতা, পরজীবী হয়ে বাঁচে,শুনে না কবিতা। স্বাধীনতা আনে প্রেম কবিতা লেখায়, শুনিয়া সত্য আহ্বান হৃদয় পাতায়। স্বাধীনতা ভেঙে দেয় দ্রোহীদের মঞ্চ, মুক্তিকামী বীর মনে জাগায় রোমাঞ্চ। স্বাধীনতা কান্না আনে চরম ত্যাগের, রক্ত কণার আভায় আনে প্রাণ ফের। স্বাধীনতা? ওই দেখো দেশের পতাকা, রক্তে হলো যে রঞ্জিত,হলো সূর্য আঁকা।

বর্ষা

আকাশেতে বাজ হাকে,বাদলের কি আভাস! বাতাসেই শীত জাগে,গম্ভীর কি আকাশ ক্ষণ বাদে দিকে হাকে আযানের সেই সুর  আলোকের ঝলকানি আঁধারেতে জাগে নুর। কেটে যায় ক্ষণসব আঁধারেতে কলরব, মেঘ রেগে ডেকে ওঠে,ধ্বনি হয় উদ্ধব। আকাশের আশা যদি ধারা কিছু বরষে, নিষ্প্রাণে প্রাণ পাবে তার কিছু পরশে। গ্রীষ্মের গেছে দুখ, ঘুচেছে কি সব ভুল? তবে দাও ধরা পরে যেন হাসে ধরাকূল।  মন্থর কালোমেঘ রেগে ওঠে প্রতিবার ঘনীভূত হয়ে তবে শেষে হলো নির্ভার।  বায়ু আনে প্রকৃতিতে তোড়জোড় গর্জন, এই কি বা বর্ষাতে হলো তব অর্জন? ডাক শুনে ধরাকূল কেঁদে হলো এ অাকূল, তবে হবে মোর ভুল,হয়তোবা তারা ভুল। গল্পের সমতায় আসে মৃদু সমীরণ, এইবারে আনো মেঘ সূর্যের সে কিরণ। পরদিন নভঃ মাঝে সবদিক সুনসান  নেই কথা নিরবতা শব্দের প্রস্থান।  রুদ্ধ এ প্রকৃতির যুদ্ধের শেষে,তাই সুর রেশ নেই হেথা,সুবাসের দেশে ধায়। কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান  ১৮/০৫/২৩,কোতোয়ালি Photo:pexels

অনিশ্চিতি

  মাগরিবেরই পড়ছে আযান,সূর্য ডুবে গেছে, নিসর্গ তাই নিরব সভায় দিচ্ছে ধ্বনি যেচে। সবুজঘেরা অরণ্যতে সভার কার্য শেষ, প্রকৃতির প্রাণের সখাও দান পেয়েছে বেশ। গাছ গাছালি,বৃক্ষ লতা, চলছে যেন ধীরে, বিকেল শেষে সন্ধ্যা হলো,ফিরবে তারা নীড়ে। আবছা আলোয় ফিরল যবে ক্লান্তি জাগে দেহে, নিত্যচেনা নিকুঞ্জ ওই,নিজের আপন গেহে। গাছের ঝাড়ও ঘুমের ঘোরে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়, ঝিঁঝিপোকা চলছে হেকে,সেতো থামার নয়। আঁধার বনের আবছা ছায়া, বৃক্ষরাও তো ঘুম, প্রান্তসীমায় খানিক হাওয়া দেয় বুলিয়ে চুম। গাছের পাতা উঠলো দুলে,কমলো ঘুমের রেশ, ঊর্ধ্বপানে তারার মেলায় বাড়ায় তার আবেশ। অচিনপুরের অচিন তারা,আবাস তাদের কোথা? আলোক বিলায় ধরার মাঝে,জাগায় আলোর সভা। দূরের পথে চলন তবু আঁধার তার সঙ্গে, বনের ছায়ায় যায় মিলিয়ে শুধুই তরঙ্গে। গাছগুলি কি দ্যায় পাহারা,শুধু রয় দাঁড়ায়? অসাড় তারই ডালগুলো ঠায় হাওয়াতে নাড়ায়। এতেক ভেবে ঘুম অচেতন বৃক্ষ ওঠে জেগে, গুল্ম,তাতে উঠলো নাচন,খানিক বাতাস লেগে। তরুলতার ক্লান্তি মিলায়,সজীব হলো প্রাণ; নতুন দিনের আগাম কথা,জাগলো নূতন গান। নিশিথেরই সময় রেখা গড়ায় তবে শেষে, মানব নামের যন্ত্রে দ্যাখো অনিশ্চিতি মেশে। ৪...

নীলাভ গ্রহের বাসিন্দা

  ১ আবছা নীলাভ বিন্দুটা ক্রমেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।আর মাত্র কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা।  তর সইছে না তার। স্প্রেরস্যুটটায় আবার চোখ বুলাল আমান। -নাহ,এবার ঠিকই আছে।  এতক্ষণে ক্লান্ত চোখ চারপাশে ঘুরতেই স্থির হলো তা টেবিলে রাখা একটি চশমাতে।আমান আনমনা হয়ে যায়। চশমাটা তুলে হাতে নেয় সে।পুরনো একটি চশমা, বছর দশেক আগের হবে হয়তো।আরো বেশিও হতে পারে, অবশ্য আর  পরার মতো অবস্থা নেই,নড়েবড়ে। বাবার স্মৃতি হিসেবে রাখা।পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্যে  বাবা এনেছিল এই উপহার।  একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল আমান,বাবাকে দেখা হচ্ছে না দশ বছর ধরে। তখন ছিল ২০৩৪ সাল। বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষিত জনগোষ্ঠী প্রস্তাব দেয় 'বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা' গঠনের।অর্থনীতিতে বাংলাদেশ মোটামুটি উন্নত রাষ্ট্রের দ্বারপ্রান্তে,এমন প্রেক্ষাপটে তাদের এ প্রস্তাব অবশ্য যৌক্তিক। জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় সরকারও মনোযোগী হয়। শেষপর্যন্ত গঠন হয় বাংলাদেশের নামে প্রথম মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। এই সংস্থার যুগান্তকারী পদক্ষেপ -উন্নত দেশসমূহের সাথে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ। শুক্র ও মঙ্গল গ্রহে জীবনের সন্ধানে কয়েকজন নভোচারী পাঠানো হবে।বাংলাদেশেও কতেক ...

যে শহরে কবিরা মরে যায়

  যে শহরে কবিরা মরে যায়,  সে শহরে মানুষ কিভাবে বাঁচে? ভাবলেশহীন চলন্ত রোবট কতগুলো যেথা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।  সে শহরে কি মানুষ বাঁচে, যেথা আছে শুধু মানসিকতার দাসত্ব?  চাকচিক্যের বর্ণনায় ক্লান্ত আর ক্লান্ত আমরা– মানবিকতা দিয়েছি বর্গাচাষীর কাছে। যে শহরে যাপিত জীবন কেবল যন্ত্র-যন্ত্র খেলে, সে শহর রঙিন, হয় মুখরিত, অর্থ মন্ত্র পেলে। রঙিন তবুও নয়– সাদাকালো, জীবনের দেখা ছাঁচে।  এখন আর কেউ হয়না কবি, কবিতায় আনে যেন মৃত্যু,  রঙিন ফুলের সুবাসে পাখিরা সেই সে কবে, কিচিরমিচির করে ডেকেছিল গাছে গাছে।  যে শহরে কবিরা মরে যায়,  সে শহরে কি মানুষেরা আর বাঁচে? বঞ্চিত হৃদে হাহাকার ধ্বনি আর ধূর্তরা শুধু নাচে। মানুষ যেন মানুষ নয়কো,মানুষ শুধুই নামে, তবে কবিরাও চলবে কি স্বার্থের পিছু পিছু? কবিতার তরে এতই অবজ্ঞা! আস্তাকুঁড়েই যাও, তব কাঙ্ক্ষিত পরজীবীদের পাছে পাছে। সে শহরে কি কবিরা বাঁচে যেথা মানুষই অনস্তিত্ব?  নয়? তবে,তা হবে শীঘ্রই  যদি হৃদয় না রয় কাছে। কবির লাশের উপর দিও তখন  ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফুল, হেরে তায় শরতের সাদা মেঘও হবে বিহ্বল; দিও ফিরিয়ে তারে আদিম আবাসে, মুগ্ধত...