Skip to main content

Posts

Showing posts from December 29, 2024

রং-তুলি

আমার একটি গল্প ছিল,হৃদয় মাঝে রাখা; কবিতারই রংতুলিতে রংধনু সেই আঁকা। সাদার এমন ক্যানভাসে যেই বিষাদ আভাস আসে, নীলের আকাশ হাতছানি দেয় আঁচড় রেখার পাশে। জলের ছাপে ধূসর রেখা যখন ছুটে যায়, মাটির পরম মমতাতে পুঞ্জিত হয় কায়। সবুজ রঙের সমারোহে ঝোপের স্বরূপ জাগে, বিন্দু খানিক তীক্ষ্ণ হলো পাখির অনুরাগে। কালো সবুজ মিশে গিয়ে দিগন্তরূপ আঁকে, তুলির আঁচড় দীর্ঘ হলো গ্রামীণ নদীর বাঁকে। খানিক বাদল সাঙ্গ হলো,জাগছে এবার রোদ, দূরের মাঠে ছেলের দলে করছে যে আমোদ। চড়ুই ভিজে ছন্নছাড়া, কাক তো ঝাঁকায় শির, গৃহস্থ যে ফিরছে ঘরে,চলন তাহার ধীর। একি–আকাশ মাঝে শরৎ মেঘও বিস্ময়ে রয় থ, রামধনুকের চলন সে পথ ফিরছে হয়তো। মেঘরা আসে দীর্ঘশ্বাসে গল্প তারও ছিল, যায় হারিয়ে, দূর আশাতে,কলম তাহায় নিল। এমন গল্প শুনবে না কেউ, হৃদয় মাঝে রাখা, থাক না কিছু গল্প এমন দুঃখ দিয়ে ঢাকা। ✍️:কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান

পিশাচিনী

এক ছিল পোড়োবাড়ি;কয়েকযুগের শেষে ভগ্নপ্রাপ্ত,ধূসর গম্বুজের শীষে গগনবিদারী একটি শূল;তার পাশে চলে গেছে একটি মেঠোপথ, কাছে স্থিরতায় দাঁড়িয়ে রয় ক্ষীণকায় দু'টি শুষ্ক গাছ। সেদিন অমাবস্যার রাত ছিল,চারদিক সুনশান–নিস্তব্ধ ; হঠাৎ ওই পোড়োবাড়িতে কিসের যেন আনাগোনা, ক্রমশ মুখর হয় চারপাশের পরিবেশ। জনাকয়েক বন্ধু শহরে থেকে ফিরছিল, মা-বাবা আর ভাই বোনদের সাথে দেখা করবে অনেকদিন পর।ব্যাগে ছিল বইপুস্তক, হাতে ছিল মায়ের জন্য শাড়ি,বাবার জন্য পাঞ্জাবি আর বোনের জন্য কিছু গহনা। পথ চলছে তারা সেই মেঠোপথ ধরে, সহসা চোখ আটকে গেল তাদের–ওই পোড়োবাড়িতে, ভয় ও আতঙ্কে হলো তারা বিহ্বল। একটি অর্ধবিগলিত মড়ার মাথা খুবলে খাচ্ছে কিছু রাক্ষস এবং তা বাড়িয়ে দিচ্ছে সামনে থাকা পিশাচিনীর কাছে। আগন্তুকেরা আঁতকে ওঠে,ভয়ানক সেই জন্তুদের দেখে; একজনের কাধ থেকে ব্যাগ পড়ে যায়, পরিবারের জন্য আনা স্বপ্নগুলো পড়ে যায় মাটিতে–শব্দ করে। এবার রাক্ষসদের সাথে থাকা পিশাচিনী সজাগ হয়, ইঙ্গিত দেয় তাদের ধরে আনার; সৃষ্টিসুখের আজ হবে মহাভোজ, আনন্দ আর গল্প গীতে। আগন্তুকেরা ভয় পেয়েছে কিন্তু হারায়নি আশা, স্থির দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে করে দুর্বার প্রতিরোধ। মড়ার উচ্ছিষ্টা...

ধোঁয়াশা

পড়ন্ত বিকেলে ধীর পদক্ষেপে চলছি সামনে, শুকনো পাতার আলপনা কিছু সাজানো রয়েছে পথে; চির পরিচিত প্রান্তর এই,সবুজের ছোঁয়া হৃদয়ের আঙিনাতে। আজকে ব্যস্ততা নেই,নেই কোনো চঞ্চলতা  জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যাওয়ার।  এ যেন নিসর্গের নিবিড় দরবার,আমি অভ্যাগত, আমি কেউ নই তাদের নিয়ে বলার। এই আঙিনায় কত স্মৃতি, ব্যস্ততায় হয়নি দেখা, খাঁ খাঁ করে ক্যাম্পাস;গাছ-গাছালি মাঝে ছিল এক —সাইকাস আর ঊর্ধ্বে ছিল বিশাল আসমান।  আজকে আমার এই চলন-সরণ বিজনে-বেখেয়ালে  শুধু সময়ের সমীকরণ খুঁজে বেড়ায়। ইট-পাথুরে দালানের সাথে প্রকৃতির সখ্যতা  হয়েছে কেবল দীঘল সময় তরে। তব কথা মম মনে এমনি সাবলীল,  অতি স্বচ্ছ—শরৎ মেঘের মতো। ভাবনাগুলো কাব্য খুঁজিয়া ফেরে, আপন হইয়াও কেন যেন অপরিচিত।  আপন মনে বোধোদয় হয়,ভাবনাতে অস্পষ্ট ; ধ্বনি তব যেন জাগে সহসাই; সে কথা—যা রহস্য আনে ধোঁয়াশায়, ছড়ালো যে দূর দিগন্তে।