তখন ছিল শীতকাল।অন্যান্য বছরের চেয়ে সে বছর শীত একটু বেশিই পড়েছিল।কুয়াশায় চারপাশটা আচ্ছন্ন করে রাখে।হাড় কাঁপানো শীতে মানুষ,পশু-পাখি, জীব-জন্তু সবার জীবন সংকটাপন্ন।
এমনই সংকটে পড়েছিল একটি কাক।প্রচন্ড ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে মানুষ যখন সোয়েটার, জ্যাকেট আর কম্বল নিত তখন কাক কাঁপত শীতে।কাক বেচারা ছিল খুবই গরিব।তার সোয়েটার কেনার টাকা নেই।এমন এক পরিস্থিতিতে একটু আগুন পোহানোর ব্যাপারটা নেহাত মন্দ না।যেই ভাবা সেই কাজ।কাকটি উড়ে গিয়ে অনেক কষ্টে গ্রামের একমাত্র কামারের কাছে গেল।গিয়ে দেখে ঘরের দরজা বন্ধ।
—ও কামার ভাই,ঘরে কি আছো?
—এই কে রে?এত সকালে হইচই কেন করছিস?
—কামার ভাই,আমি কাক। আপনার কাছে একটু আগুন নিতে আসছি।যে শীত পড়ছে আজকাল।
"ওহ,তাই বল", কামার মশাই দিশা পায় এতক্ষণে," তো আগুন নিবি,এই কি বড় জিনিস"।জলন্ত এক টুকরো কয়লা লোহার কাঠিতে নেয় আর বলে,
"এই দেখি,নে আগুন। হাত পাত"
—কামার ভাই, আমার তো হাত নেই।এ কাজ করি ঠোঁটে নিই।
—নিবি?এই তাহলে নে।
কয়লার টুকরাটা নিতে গিয়েই ঠোঁটটা জ্বলে গেল।
কাক কাঁতরে বলল,"ওরে বাবা।পুড়ে গেলাম।" কাক এবার অনেক চিন্তা করে—আগুন তো নিতেই হবে।ডানায় করে নিই।
কয়লা সে আজ নিবেই,যে করেই হোক,যে কোন মূল্যেই। ডানায় নিতেই হঠাৎ ডানা পুড়ে গেল,পায়ে নিতে গিয়ে পুড়ল পা।আগুনের হল্কা ঠিকরে পড়ল কাকের গায়ে।বেচারা কাক তখন মারা গেল।
Comments
Post a Comment