Skip to main content

পিশাচিনী

এক ছিল পোড়োবাড়ি;কয়েকযুগের শেষে
ভগ্নপ্রাপ্ত,ধূসর গম্বুজের শীষে গগনবিদারী একটি
শূল;তার পাশে চলে গেছে একটি মেঠোপথ,
কাছে স্থিরতায় দাঁড়িয়ে রয় ক্ষীণকায় দু'টি শুষ্ক গাছ।

সেদিন অমাবস্যার রাত ছিল,চারদিক সুনশান–নিস্তব্ধ ;
হঠাৎ ওই পোড়োবাড়িতে কিসের যেন আনাগোনা,
ক্রমশ মুখর হয় চারপাশের পরিবেশ।

জনাকয়েক বন্ধু শহরে থেকে ফিরছিল,
মা-বাবা আর ভাই বোনদের সাথে দেখা করবে অনেকদিন পর।ব্যাগে ছিল বইপুস্তক,
হাতে ছিল মায়ের জন্য শাড়ি,বাবার জন্য পাঞ্জাবি
আর বোনের জন্য কিছু গহনা।
পথ চলছে তারা সেই মেঠোপথ ধরে,
সহসা চোখ আটকে গেল তাদের–ওই পোড়োবাড়িতে,
ভয় ও আতঙ্কে হলো তারা বিহ্বল।

একটি অর্ধবিগলিত মড়ার মাথা খুবলে খাচ্ছে কিছু রাক্ষস
এবং তা বাড়িয়ে দিচ্ছে সামনে থাকা পিশাচিনীর কাছে।

আগন্তুকেরা আঁতকে ওঠে,ভয়ানক সেই জন্তুদের দেখে;
একজনের কাধ থেকে ব্যাগ পড়ে যায়,
পরিবারের জন্য আনা স্বপ্নগুলো পড়ে যায় মাটিতে–শব্দ করে।
এবার রাক্ষসদের সাথে থাকা পিশাচিনী সজাগ হয়,
ইঙ্গিত দেয় তাদের ধরে আনার;
সৃষ্টিসুখের আজ হবে মহাভোজ,
আনন্দ আর গল্প গীতে।

আগন্তুকেরা ভয় পেয়েছে কিন্তু হারায়নি আশা,
স্থির দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে করে দুর্বার প্রতিরোধ।

মড়ার উচ্ছিষ্টাংশ খাবার জন্য এসে জড়ো হয়েছে অনেক কুকুর,
ঘেউ ঘেউ করে ডেকেই চলছে তারা অবিশ্রান্তভাবে।
পথ প্রান্তর শেষে দূরে এক কুঁড়েঘর,এখনো জেগে আছে হয়তো,
গ্রামের জনতা দূরপ্রান্তে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়ায়,
থেকে থেকে শেয়ালের ডাক ভেসে আসে।

আগন্তুকদের তরে এমন অভ্যর্থনা পিশাচিনীর
যা তাদের টেনে নিয়ে চলতে থাকে পোড়োবাড়ির দিকে।
দুয়ারের কপাট উপড়ে ফেলে,দেয়ালে খোদাইকৃত মূর্তি
হতে অতৃপ্ত আত্মা জেগে ওঠে অতীত পিশাচের।
হিমশীতল হাসিতে থমথম করতে থাকে পুরো ঘর।
একযোগে হামলে পড়ে নতুন শিকারের দিকে।
প্রতিবাদ ছিল আগন্তুকদের,শেষে ছিল প্রতিরোধ,
রক্তপিপাসু পিশাচিনীর তবু নেই কোনো বিচলতা।
উন্মত্ত রাক্ষসগুলো অনুগামী হয় পিশাচিনীর,
ধূর্ত শেয়ালের ধ্বনি স্থিরতায় শোনে।

দূরপ্রান্তে জনতা ঠায় রয় দাঁড়ায় নিরব ভূমিকায়,
ক্লান্ত শ্রান্ত কুকুরেরাও চলছে এখনো হেকে।
অদূরে আগন্তুকদের স্বপ্ন মাটিতে লেগে,
ধ্রুবকরূপে অবিরাম ব্যাপিত হয় চারদিক।

শুক্রবার 
১৯জুলাই,'২৪
✍️:কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান 



Comments

Popular posts from this blog

খোঁজ নেই

শূণ্যতা এসে ঘিরে চারিধারে মন ছুটে যেদিকেই; হৃদয়ের মাঝে যে কাব্য ছিল তার কোনো খোঁজ নেই। বারে বারে খুঁজি, তার সব স্মৃতি  তবু দেখি নেই সে, বিস্মৃতি বলে সব রীতি ভুল,  মিলবে না তার দিশে। কবিতার লেখা পথ ভুলে যায় মন হলে বিচলিত, নিখোঁজ এমনি তার সব তান, সেই কেন অবারিত। শূন্যতা আনে বিরহের সুর মনে তাই বারবার  অপার বিষাদে আনে ক্রন্দন  হৃদয়েের চারিধার। ✍️:নাহিয়ান 

পথিকৃৎ

 পথিকৃৎ  চলিছে পথিক,তিমির রাত্রি, একেলা নিঝুম পথে চক্ষু তাহার ভ্রমিতেছে হায়, মুসাফির মুসিবতে ।। পথের প্রান্তরে শেয়ালের ডাক, নিশিথে দানিল ভয়, ভয়ার্ত পথিক চলিছে কাঁপিয়া তবু,মানে নাই পরাজয়।। পান্থ দেখিল পথেরি পাশে আঁকা-বাঁকা মোড় কত, দিশাহীন পথে ছুটিবে কোথায়? বাঁধা যেথা অবিরত ।। দূরপথ রেখা,পাইল না দেখা; নাই কেন কোন আলো, ঘনিয়াছে যেন আমাবস্যার রাত, চারদিকে ঘোর কালো।। মেঠোপথ পাশে বায়ে শত মোড়, ডানে দেখে সোজা হেথা, বিষাদগ্রস্থ পথিকের বুকে তাই বিধিঁল ভয়ের ব্যাথা।। সহসা তন্দ্রা লাগিল নেত্রে,  শক্তি   পাইল   বুকে; "হস্তে প্রদীপ,আলোকিত তায় " হেরিল সে একোন লোকে? এবার ঘুম ছুটিয়া পালাইল, চক্ষু  উঠিল  জাগি, দিগন্তে কোন প্রদীপ চিহ্ন দিশা দিল তার লাগি? অদূরে পথিকৃতের প্রদীপ দিশা দেয় যেই আলো, সে আলোয় পথিক খুজে পেল পথ পেল সত্যের সব ভালো।।  নকশা মেলিয়া, খানিক দুলিয়া  হেরিল সেঁ পথিক পানে, চাঁদহীন রাতে তারকারা সব জ্বলে ওঠে আসমানে।। পথিকৃৎ যেন বলিল তাহাকে এসো এসো এই দিকে- সত্যের পথ,সাম্যের পথ- শান্তিচিহ্ন লিখে।। পথিকৃতের পদধ্বনি শুনি, পথিক ছুটিয়া চলে চির- ...

নীলাভ গ্রহের বাসিন্দা

  ১ আবছা নীলাভ বিন্দুটা ক্রমেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।আর মাত্র কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা।  তর সইছে না তার। স্প্রেরস্যুটটায় আবার চোখ বুলাল আমান। -নাহ,এবার ঠিকই আছে।  এতক্ষণে ক্লান্ত চোখ চারপাশে ঘুরতেই স্থির হলো তা টেবিলে রাখা একটি চশমাতে।আমান আনমনা হয়ে যায়। চশমাটা তুলে হাতে নেয় সে।পুরনো একটি চশমা, বছর দশেক আগের হবে হয়তো।আরো বেশিও হতে পারে, অবশ্য আর  পরার মতো অবস্থা নেই,নড়েবড়ে। বাবার স্মৃতি হিসেবে রাখা।পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্যে  বাবা এনেছিল এই উপহার।  একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল আমান,বাবাকে দেখা হচ্ছে না দশ বছর ধরে। তখন ছিল ২০৩৪ সাল। বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষিত জনগোষ্ঠী প্রস্তাব দেয় 'বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা' গঠনের।অর্থনীতিতে বাংলাদেশ মোটামুটি উন্নত রাষ্ট্রের দ্বারপ্রান্তে,এমন প্রেক্ষাপটে তাদের এ প্রস্তাব অবশ্য যৌক্তিক। জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় সরকারও মনোযোগী হয়। শেষপর্যন্ত গঠন হয় বাংলাদেশের নামে প্রথম মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। এই সংস্থার যুগান্তকারী পদক্ষেপ -উন্নত দেশসমূহের সাথে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ। শুক্র ও মঙ্গল গ্রহে জীবনের সন্ধানে কয়েকজন নভোচারী পাঠানো হবে।বাংলাদেশেও কতেক ...

মেঘজাল

আকাশের নীলে মেঘ নিল ঠাঁই তন্দ্রা কেমন নেমে আকাশের পথে জলকণা আনে মেঘজাল কিছু ঘেমে। শীতল সমীর বহিছে কেমনি,আভাসেই বারিধারা, প্রকৃতির এত অবারিত দান মন ভুলে পেল কারা? ধূসরিত মাঠ ছাপিয়ে জেগেছে সবুজাভ কিছু লেখা, আপন হৃদয়ে কিছু কথা ছিল,পিছু পিছু তাই দেখা। নিশাস যেমনি হৃদপটে আনে হারানোর কিছু সুর, তেমন দৃশ্য প্রকৃতিও আঁকে,সে তো কভু নয় দূর। নিসর্গে কেন জাগছে দৃশ্য আপন খেয়াল রূপে, সুরভি ছড়ালো চারদিকে ছেয়ে বেখেয়ালি মন ধূপে। নীলাভ আকাশে মেঘ নিল ঠাঁই তন্দ্রা কেমন নেমে, হৃদয় আকাশে মেঘ নিল ঠাঁই,মন্দ্রা কেমন প্রেমে; Photo:Gemini

অনিশ্চিতি

  মাগরিবেরই পড়ছে আযান,সূর্য ডুবে গেছে, নিসর্গ তাই নিরব সভায় দিচ্ছে ধ্বনি যেচে। সবুজঘেরা অরণ্যতে সভার কার্য শেষ, প্রকৃতির প্রাণের সখাও দান পেয়েছে বেশ। গাছ গাছালি,বৃক্ষ লতা, চলছে যেন ধীরে, বিকেল শেষে সন্ধ্যা হলো,ফিরবে তারা নীড়ে। আবছা আলোয় ফিরল যবে ক্লান্তি জাগে দেহে, নিত্যচেনা নিকুঞ্জ ওই,নিজের আপন গেহে। গাছের ঝাড়ও ঘুমের ঘোরে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়, ঝিঁঝিপোকা চলছে হেকে,সেতো থামার নয়। আঁধার বনের আবছা ছায়া, বৃক্ষরাও তো ঘুম, প্রান্তসীমায় খানিক হাওয়া দেয় বুলিয়ে চুম। গাছের পাতা উঠলো দুলে,কমলো ঘুমের রেশ, ঊর্ধ্বপানে তারার মেলায় বাড়ায় তার আবেশ। অচিনপুরের অচিন তারা,আবাস তাদের কোথা? আলোক বিলায় ধরার মাঝে,জাগায় আলোর সভা। দূরের পথে চলন তবু আঁধার তার সঙ্গে, বনের ছায়ায় যায় মিলিয়ে শুধুই তরঙ্গে। গাছগুলি কি দ্যায় পাহারা,শুধু রয় দাঁড়ায়? অসাড় তারই ডালগুলো ঠায় হাওয়াতে নাড়ায়। এতেক ভেবে ঘুম অচেতন বৃক্ষ ওঠে জেগে, গুল্ম,তাতে উঠলো নাচন,খানিক বাতাস লেগে। তরুলতার ক্লান্তি মিলায়,সজীব হলো প্রাণ; নতুন দিনের আগাম কথা,জাগলো নূতন গান। নিশিথেরই সময় রেখা গড়ায় তবে শেষে, মানব নামের যন্ত্রে দ্যাখো অনিশ্চিতি মেশে। ৪...