টেবিলটা কেমন জানি এবড়োখেবড়ো, টুলটাও একটু
খাপছাড়া। মার্জিনকরা সাদা খাতা দেখতে বিরক্ত লাগছে অনেক।আচ্ছা আজ কি না লিখলেই নয়?সারাজীবন তো লিখেই আসলাম।দায়িত্ববোধ না হয় আজ থাকুক টেবিলে।
ছোট্ট একটা টেবিল,পাশের দেয়ালটাকে জায়গা দিয়েছে এট্টুক।—নাহ,আর লিখব না।জানালার চৌকাঠ পেরিয়ে গাছের চূড়ায় চোখ যায়। তিনতলা থেকে গাছের গুঁড়ি তো দেখা যায় না তেমন।ডালের ফাঁকে পাখিদের বাসা—খড়খুঁটো দিয়ে বোনা। হয়তো টুনটুনির হবে। তিনটা বাসা।কেমন অবলীলায় গাছের ডালের ফাঁকে আটকে রয়েছে! আচ্ছা বৃষ্টিতে তো পাখিরা ভিজে যাবে,পাখিদের তো রেইনকোট নেই।ঠান্ডায় হয়তো কাঁপতে কাঁপতে বিল্ডিং এর কার্নিশে এসে দাঁড়াবে,গান করার আর ইচ্ছে রবে না তখন।
অডিটোরিয়াম থেকে গানের কোরাস ভেসে আসছে।—নাহ,আর লেখা যাচ্ছে না।বাংলা দ্বিতীয় এর বানান,উচ্চারণ আর সমাস লিখতেই মাথা ঘুরে যাচ্ছে, তার উপর আবার গানের কোরাস।গাছের ডালে একটি পাখি এসে বসেছে।গাছের পাতা একটু দুলল,নাকি মনের ভ্রম?
কলমটা হাতে রয়েই গিয়েছে। হাত ঘামাচ্ছে।রচনামূলক অংশ লেখা এখনও বাকি।কিন্তু লিখতে ইচ্ছে করছে না।—আচ্ছা দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের গরুত্ব,থুক্কু গুরুত্ব লিখতে গেলে কার কার কবিতা দেয়া যায়?কাজী নজরুলের সংকল্পটা দেয়া যায় আংশিক।
"থাকব না কো বদ্ধ ঘরে,
দেখব এবার জগৎটাকে,-
কেমন করে ঘুরছে মানুষ
যুগান্তরের ঘুর্ণিপাকে।"
আচ্ছা এতটুকুতে তো পৃষ্ঠা পুরা হবে না।কি করা যায়। ও একটা কবিতা বানানো যাক,ইন্টারনেটে পড়েছিলাম কখন জানি।সেটা না হয় কপচিয়ে দিব।
"সত্য প্রকাশ করবে
বেশি মিথ্যা যাবে বাদ
প্রযুক্তি হোক সবার তরে
শুদ্ধ আশীর্বাদ "
—ওহহো,এবড়োখেবড়ো টেবিলে লেখা সত্যিই বিরক্তির।গাছের ডাল থেকে পাখিটি উড়ে গেল।গাছের সবুজে মনটা হারালো আবার।হয়তো আজ কোন এক মহাকাব্য লেখা যেত।মোহময় আভা,সুমধুর তান,পাখিদের গান, হৃদয়ের সুর।কবিতা আজ না হয় থাক।টেস্ট পরীক্ষায় আর মহাকাব্য না হোক।উদাস না হোক কেউ।আজ লিখতে হবে,কলম চলতে হবে।ক্লান্ত কলম মুসাফির হলো দিশেহারা কাগজেই।নীল কালিতে লেখা একটা শিরোনাম:
১২ নং প্রশ্নের উত্তর

Comments
Post a Comment