Skip to main content

Posts

Showing posts from June 2, 2024

অনিশ্চিতি

  মাগরিবেরই পড়ছে আযান,সূর্য ডুবে গেছে, নিসর্গ তাই নিরব সভায় দিচ্ছে ধ্বনি যেচে। সবুজঘেরা অরণ্যতে সভার কার্য শেষ, প্রকৃতির প্রাণের সখাও দান পেয়েছে বেশ। গাছ গাছালি,বৃক্ষ লতা, চলছে যেন ধীরে, বিকেল শেষে সন্ধ্যা হলো,ফিরবে তারা নীড়ে। আবছা আলোয় ফিরল যবে ক্লান্তি জাগে দেহে, নিত্যচেনা নিকুঞ্জ ওই,নিজের আপন গেহে। গাছের ঝাড়ও ঘুমের ঘোরে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়, ঝিঁঝিপোকা চলছে হেকে,সেতো থামার নয়। আঁধার বনের আবছা ছায়া, বৃক্ষরাও তো ঘুম, প্রান্তসীমায় খানিক হাওয়া দেয় বুলিয়ে চুম। গাছের পাতা উঠলো দুলে,কমলো ঘুমের রেশ, ঊর্ধ্বপানে তারার মেলায় বাড়ায় তার আবেশ। অচিনপুরের অচিন তারা,আবাস তাদের কোথা? আলোক বিলায় ধরার মাঝে,জাগায় আলোর সভা। দূরের পথে চলন তবু আঁধার তার সঙ্গে, বনের ছায়ায় যায় মিলিয়ে শুধুই তরঙ্গে। গাছগুলি কি দ্যায় পাহারা,শুধু রয় দাঁড়ায়? অসাড় তারই ডালগুলো ঠায় হাওয়াতে নাড়ায়। এতেক ভেবে ঘুম অচেতন বৃক্ষ ওঠে জেগে, গুল্ম,তাতে উঠলো নাচন,খানিক বাতাস লেগে। তরুলতার ক্লান্তি মিলায়,সজীব হলো প্রাণ; নতুন দিনের আগাম কথা,জাগলো নূতন গান। নিশিথেরই সময় রেখা গড়ায় তবে শেষে, মানব নামের যন্ত্রে দ্যাখো অনিশ্চিতি মেশে। ৪...

নীলাভ গ্রহের বাসিন্দা

  ১ আবছা নীলাভ বিন্দুটা ক্রমেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।আর মাত্র কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা।  তর সইছে না তার। স্প্রেরস্যুটটায় আবার চোখ বুলাল আমান। -নাহ,এবার ঠিকই আছে।  এতক্ষণে ক্লান্ত চোখ চারপাশে ঘুরতেই স্থির হলো তা টেবিলে রাখা একটি চশমাতে।আমান আনমনা হয়ে যায়। চশমাটা তুলে হাতে নেয় সে।পুরনো একটি চশমা, বছর দশেক আগের হবে হয়তো।আরো বেশিও হতে পারে, অবশ্য আর  পরার মতো অবস্থা নেই,নড়েবড়ে। বাবার স্মৃতি হিসেবে রাখা।পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্যে  বাবা এনেছিল এই উপহার।  একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল আমান,বাবাকে দেখা হচ্ছে না দশ বছর ধরে। তখন ছিল ২০৩৪ সাল। বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষিত জনগোষ্ঠী প্রস্তাব দেয় 'বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা' গঠনের।অর্থনীতিতে বাংলাদেশ মোটামুটি উন্নত রাষ্ট্রের দ্বারপ্রান্তে,এমন প্রেক্ষাপটে তাদের এ প্রস্তাব অবশ্য যৌক্তিক। জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় সরকারও মনোযোগী হয়। শেষপর্যন্ত গঠন হয় বাংলাদেশের নামে প্রথম মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। এই সংস্থার যুগান্তকারী পদক্ষেপ -উন্নত দেশসমূহের সাথে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ। শুক্র ও মঙ্গল গ্রহে জীবনের সন্ধানে কয়েকজন নভোচারী পাঠানো হবে।বাংলাদেশেও কতেক ...

যে শহরে কবিরা মরে যায়

  যে শহরে কবিরা মরে যায়,  সে শহরে মানুষ কিভাবে বাঁচে? ভাবলেশহীন চলন্ত রোবট কতগুলো যেথা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।  সে শহরে কি মানুষ বাঁচে, যেথা আছে শুধু মানসিকতার দাসত্ব?  চাকচিক্যের বর্ণনায় ক্লান্ত আর ক্লান্ত আমরা– মানবিকতা দিয়েছি বর্গাচাষীর কাছে। যে শহরে যাপিত জীবন কেবল যন্ত্র-যন্ত্র খেলে, সে শহর রঙিন, হয় মুখরিত, অর্থ মন্ত্র পেলে। রঙিন তবুও নয়– সাদাকালো, জীবনের দেখা ছাঁচে।  এখন আর কেউ হয়না কবি, কবিতায় আনে যেন মৃত্যু,  রঙিন ফুলের সুবাসে পাখিরা সেই সে কবে, কিচিরমিচির করে ডেকেছিল গাছে গাছে।  যে শহরে কবিরা মরে যায়,  সে শহরে কি মানুষেরা আর বাঁচে? বঞ্চিত হৃদে হাহাকার ধ্বনি আর ধূর্তরা শুধু নাচে। মানুষ যেন মানুষ নয়কো,মানুষ শুধুই নামে, তবে কবিরাও চলবে কি স্বার্থের পিছু পিছু? কবিতার তরে এতই অবজ্ঞা! আস্তাকুঁড়েই যাও, তব কাঙ্ক্ষিত পরজীবীদের পাছে পাছে। সে শহরে কি কবিরা বাঁচে যেথা মানুষই অনস্তিত্ব?  নয়? তবে,তা হবে শীঘ্রই  যদি হৃদয় না রয় কাছে। কবির লাশের উপর দিও তখন  ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফুল, হেরে তায় শরতের সাদা মেঘও হবে বিহ্বল; দিও ফিরিয়ে তারে আদিম আবাসে, মুগ্ধত...