Skip to main content

Posts

Showing posts from 2026

*আভা

যে হৃদয় কভু ভালো বাসতে পারে  সে হৃদয় তবু বাসে না ভালো যে হৃদয়ে মোহ আসতে পারে সে হৃদয়ে কভু আসে না আলো। যে হৃদয়ে গল্প ভুলে যাওয়া নয় সে হৃদয় কভু বলে না কিছু,  যেই সুরে বাণী আলো আভাময় সেই সুর তবু হলো যে নিচু। যে হৃদয় বীণায় কথা কিছু টুটে  মিলে যায় নীলিমায়, সে হৃদয় বুজে সুর কিছু ফোটে যায় ছুটে মহিমায়। ~নাহিয়ান

অলেখ্যগড়ের রাজা,শেষ পর্ব

  সরফরাজের চোখের কোণে এক ফোঁটা জল টলটল করে গড়িয়ে পড়ল। সেটা যন্ত্রণার চেয়েও বেশি ছিল বিশ্বাসের অপমৃত্যুর। তিনি বিড়বিড় করে বলতে চাইলেন— "চন্দ্রিমা... তুমিও?" কিন্তু কণ্ঠস্বর আটকে গেল জমাটবদ্ধ রক্তে। ​চন্দ্রিমা ঘোড়া থেকে নেমে ধীর পায়ে সরফরাজের রক্তাক্ত দেহের পাশে এসে দাঁড়ালেন। তার পরনে এখনো সেই আধপোড়া রাজকীয় পোশাক, কিন্তু চোখে কোনো দয়া নেই।  তিনি বলতে শুরু করলেন, "পিতা জানতেন, সম্মুখ সমরে অলেখ্যগড়কে হারানো অসম্ভব। তাই তিনি আমাকে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। তোমার সাম্রাজ্য বিস্তারের যে বুদ্ধি আমি তোমাকে দিতাম, সেগুলো ছিল আসলে আমার পিতার পাতা এক একটি ফাঁদ। তোমার অজেয় দুর্গ আজ ভেতর থেকেই ফেটে পড়েছে, সরফরাজ।" ​ঠিক সেই মুহূর্তে দুর্গের বাইরে থেকে আকাশ ফাটানো চিৎকার শোনা গেল। অলেখ্যগড়ের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ছে অমরনগরের বিশাল বাহিনী। বিশ্বাসঘাতক সেনাপতিরা ততক্ষণে অস্ত্র নামিয়ে ফেলেছে। ​সরফরাজ অস্ফুট স্বরে বললেন, "আমি... আমি তোমায় ভালোবেসেছিলাম... আমার সাম্রাজ্যের চেয়েও বেশি..." ​চন্দ্রিমার হাতের ধনুকটা কেঁপে উঠল। এক মুহূর্তের জন্য তার পাথুরে চোখে মেঘ জমল। তিনি...

অলেখ্যগড়ের রাজা

মহারাজের চেহারায় কেমন যেন দুশ্চিন্তার ছাপ। নাম তার সরফরাজ। সরফরাজ অলেখ্যগড়ের রাজা। তার রাজত্বে সার্বভৌম অলেখ্য সাম্রাজ্য। চৌদ্দ বছর বয়সেই তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন। নানা ঘাত-প্রতিঘাত, ষড়যন্ত্রের মধ্যেও তিনি প্রজ্ঞার বলে টিকিয়ে রেখেছেন তার অলেখ্য সাম্রাজ্য। কিন্তু আজকের মতো কঠিন পরিস্থিতি তার আগে কখনো হয়নি। ​সরফরাজের হাতে চিঠি। রাগে ক্ষোভে ফুঁসছেন তিনি। দরবারের মন্ত্রীদের মনে নানা উৎকণ্ঠা। প্রধান কুতুব আর তর সইতে পারলেন না। —অমরনগরের রাজাকে আজ শিক্ষা দিতে হবে, কঠিন শিক্ষা। অলেখ্যগড়ের সম্রাটের দূতকে সে হত্যা করেছে। আজ তাকে শিক্ষা দিতে হবে। দ্বিতীয় অমাত্য আবার রাজার রাগ সংবরণ করার জন্য আসলেন এগিয়ে। —মহারাজ, আপনি খুবই দয়ালু। আপনি এমন কঠিন পরিস্থিতিতে অমরনগরে আক্রমণ করা মোটেও ঠিক হবে না। তার নগরের নিরীহ মানুষদের হত্যা করা কোনোভাবেই উচিত হবে না। ​সম্রাট সরফরাজ এতক্ষণ পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। লম্বা আলখাল্লায় সূক্ষ্ম সুতার কারুকার্য। রেশমী কাপড়ের হাতায় হাত বুলালেন তিনি। ধীর পদক্ষেপে আসলেন দ্বিতীয় অমাত্যের নিকট। আর তৎক্ষণাৎ ফিরে মুষ্টিবদ্ধ হাত ছুটল তার দিকে। ​ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটে পড়ল সরফরাজের চে...

একটুখানি আগুন

তখন ছিল শীতকাল।অন্যান্য বছরের চেয়ে সে বছর শীত একটু বেশিই পড়েছিল।কুয়াশায় চারপাশটা আচ্ছন্ন করে রাখে।হাড় কাঁপানো শীতে মানুষ,পশু-পাখি, জীব-জন্তু সবার জীবন সংকটাপন্ন।  এমনই সংকটে পড়েছিল একটি কাক।প্রচন্ড ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে মানুষ যখন সোয়েটার, জ্যাকেট আর কম্বল নিত তখন কাক কাঁপত শীতে।কাক বেচারা ছিল খুবই গরিব।তার সোয়েটার কেনার টাকা নেই।এমন এক পরিস্থিতিতে একটু আগুন পোহানোর ব্যাপারটা নেহাত মন্দ না।যেই ভাবা সেই কাজ।কাকটি উড়ে গিয়ে অনেক কষ্টে গ্রামের একমাত্র কামারের কাছে গেল।গিয়ে দেখে ঘরের দরজা বন্ধ।  —ও কামার ভাই,ঘরে কি আছো? —এই কে রে?এত সকালে হইচই কেন করছিস? —কামার ভাই,আমি কাক। আপনার কাছে একটু আগুন নিতে আসছি।যে শীত পড়ছে আজকাল। "ওহ,তাই বল", কামার মশাই দিশা পায় এতক্ষণে," তো আগুন নিবি,এই কি বড় জিনিস"।জলন্ত এক টুকরো কয়লা লোহার কাঠিতে নেয় আর বলে, "এই দেখি,নে আগুন। হাত পাত" —কামার ভাই, আমার তো হাত নেই।এ কাজ করি ঠোঁটে নিই। —নিবি?এই তাহলে নে। কয়লার টুকরাটা নিতে গিয়েই ঠোঁটটা জ্বলে গেল। কাক কাঁতরে বলল,"ওরে বাবা।পুড়ে গেলাম।" কাক এবার অনেক চিন্তা করে—আগুন তো নিতেই ...

কোরাস

টেবিলটা কেমন জানি এবড়োখেবড়ো, টুলটাও একটু খাপছাড়া। মার্জিনকরা সাদা খাতা দেখতে বিরক্ত লাগছে অনেক।আচ্ছা আজ কি না লিখলেই নয়?সারাজীবন তো লিখেই আসলাম।দায়িত্ববোধ না হয় আজ থাকুক টেবিলে। ছোট্ট একটা টেবিল,পাশের দেয়ালটাকে জায়গা দিয়েছে এট্টুক।—নাহ,আর লিখব না।জানালার চৌকাঠ পেরিয়ে গাছের চূড়ায় চোখ যায়। তিনতলা থেকে গাছের গুঁড়ি তো দেখা যায় না তেমন।ডালের ফাঁকে পাখিদের বাসা—খড়খুঁটো দিয়ে বোনা। হয়তো টুনটুনির হবে। তিনটা বাসা।কেমন অবলীলায় গাছের ডালের ফাঁকে আটকে রয়েছে! আচ্ছা বৃষ্টিতে তো পাখিরা ভিজে যাবে,পাখিদের তো রেইনকোট নেই।ঠান্ডায় হয়তো কাঁপতে কাঁপতে বিল্ডিং এর কার্নিশে এসে দাঁড়াবে,গান করার আর ইচ্ছে রবে না তখন। অডিটোরিয়াম থেকে গানের কোরাস ভেসে আসছে।—নাহ,আর লেখা যাচ্ছে না।বাংলা দ্বিতীয় এর বানান,উচ্চারণ আর সমাস লিখতেই মাথা ঘুরে যাচ্ছে, তার উপর আবার গানের কোরাস।গাছের ডালে একটি পাখি এসে বসেছে।গাছের পাতা একটু দুলল,নাকি মনের ভ্রম? কলমটা হাতে রয়েই গিয়েছে। হাত ঘামাচ্ছে।রচনামূলক অংশ লেখা এখনও বাকি।কিন্তু লিখতে ইচ্ছে করছে না।—আচ্ছা দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের গরুত্ব,থুক্কু গুরুত্ব লিখতে গেলে কার কার কবিতা দেয়া যায়?কাজী...

ভুলোমন খাতা

কতো যে কথা ছিল বলার তবুও হয়নি কখনো বলা, তীর্থ ছিল একি পথ চলার তবু হয়নি কখনো চলা, কত সুর ছিল যে নেওয়ার তবু হয়নি কখনো নেওয়া, কতো কথা ছিল যে দেওয়ার তবু হয়নি কখনো দেওয়া।  কবিতা লেখার কথা ছিল খুব,একটু লিখি নি তবু, মানুষ বোঝার ত্রিকোণোমিতি—একটু শিখিনি কভু। গল্প বলার অল্প সময়, ছিল না সময় শোনার, হারালো কবিতা, ভুলোমন খাতা স্বপ্ন খানিক বোনার। কাগজ উড়ছে বাতাসের মাঝে, মনটা উদাস ফের, হৃদয় পুড়ছে দুঃখ রৌদ্রে আর কোনো আভাসের। শহর ভুললে,নগর ভুললে,অশ্রু নহর কেমন বোধন, আসলো বাহার হৃদয়ে যাহার অশ্রু তাহার কেমন যাতন। আগাম আসলো,আপন আসলো,আনন দুঃখী ফের কেন? সকল গল্প তাইতো স্বল্প কাহিনি কাব্য হয় যেন। সবুজের ছিল অবারিত দান,পাখিদের ছিল কলতান, আপনার ছিল মনোহর গান,আগামীর আহ্বান। কতো কথা ছিল বলার তবু হয়নি কখনো বলা, কতো পথ চলা ছিল বাকি তবু হয়নি কখনো চলা।

মেঘজাল

আকাশের নীলে মেঘ নিল ঠাঁই তন্দ্রা কেমন নেমে আকাশের পথে জলকণা আনে মেঘজাল কিছু ঘেমে। শীতল সমীর বহিছে কেমনি,আভাসেই বারিধারা, প্রকৃতির এত অবারিত দান মন ভুলে পেল কারা? ধূসরিত মাঠ ছাপিয়ে জেগেছে সবুজাভ কিছু লেখা, আপন হৃদয়ে কিছু কথা ছিল,পিছু পিছু তাই দেখা। নিশাস যেমনি হৃদপটে আনে হারানোর কিছু সুর, তেমন দৃশ্য প্রকৃতিও আঁকে,সে তো কভু নয় দূর। নিসর্গে কেন জাগছে দৃশ্য আপন খেয়াল রূপে, সুরভি ছড়ালো চারদিকে ছেয়ে বেখেয়ালি মন ধূপে। নীলাভ আকাশে মেঘ নিল ঠাঁই তন্দ্রা কেমন নেমে, হৃদয় আকাশে মেঘ নিল ঠাঁই,মন্দ্রা কেমন প্রেমে; Photo:Gemini

তৃষাহরা

  জীবন এমনি নিঠুরিয়া কেন,পুড়ি শুধু আক্ষেপে, আসুক একটু দুঃখ অনলে বৃষ্টির ধারা ঝেপে। অগ্নি স্বরূপ বলিতে কখনো দুঃখের ধরি নাম, জীবনের নদী কূলহারা যেন এই ছিল পরিণাম। জীবনের বাঁকে বিরহ-দুঃখ,অকূলেতে খুঁজি কূল, বেভুল পথের পথিক বুঝেছে,হায়!জীবনের পুঁজি ভুল। হৃদয়ের মাঝে ভালো যাই ছিল প্রতিকূলে ধূসরিত, ভালো কিছু তবে যাক,মরে যাক;হৃদ হোক তুষারিত।   মন্দেরা তবে এসো জড়ো হোক,হেরিবে তো ধরাকূল, প্রত্যুত্তর ধ্বনিবে ধরাতে,পথ ভুলে তো আকুল। মোর হৃদয়ের দুখিনী কাব্য এই তবে তৃষাহরা? নিষাদেরা তবে সুর খুঁজে পাক,শেষ হোক মনোহরা। তৃষিত হৃদয় হরিৎ আভাসে দিশা তবে খুঁজে পাক, তব আপনার সকল কাব্য আনমনে বুজে যাক। ✍️:নাহিয়ান