Skip to main content

Posts

দেশের পতাকা

স্বাধীনতা মানে মন জেগে ওঠা গানে, জাগে মুক্তির কল্লোল শহিদের দানে। স্বাধীনতা শব্দ ভারি,হৃদয়ে রাখতে, অনুভূতি রূপছবি খাতায় আঁকতে। শ্যামল দেশের ছবি প্রেমেতে ভাবায়, মন কেন হরে শুধু, বিকাল বেলায়? স্বাধীনতা গল্প নয় ভুলিয়ে রাখার, স্বাধীনতা প্রেম কিছু ছড়ায় আবার। স্বাধীনতা নয় কভু সে স্বেচ্ছাচারীতা, পরজীবী হয়ে বাঁচে,শুনে না কবিতা। স্বাধীনতা আনে প্রেম কবিতা লেখায়, শুনিয়া সত্য আহ্বান হৃদয় পাতায়। স্বাধীনতা ভেঙে দেয় দ্রোহীদের মঞ্চ, মুক্তিকামী বীর মনে জাগায় রোমাঞ্চ। স্বাধীনতা কান্না আনে চরম ত্যাগের, রক্ত কণার আভায় আনে প্রাণ ফের। স্বাধীনতা? ওই দেখো দেশের পতাকা, রক্তে হলো যে রঞ্জিত,হলো সূর্য আঁকা।

বর্ষা

আকাশেতে বাজ হাকে,বাদলের কি আভাস! বাতাসেই শীত জাগে,গম্ভীর কি আকাশ ক্ষণ বাদে দিকে হাকে আযানের সেই সুর  আলোকের ঝলকানি আঁধারেতে জাগে নুর। কেটে যায় ক্ষণসব আঁধারেতে কলরব, মেঘ রেগে ডেকে ওঠে,ধ্বনি হয় উদ্ধব। আকাশের আশা যদি ধারা কিছু বরষে, নিষ্প্রাণে প্রাণ পাবে তার কিছু পরশে। গ্রীষ্মের গেছে দুখ, ঘুচেছে কি সব ভুল? তবে দাও ধরা পরে যেন হাসে ধরাকূল।  মন্থর কালোমেঘ রেগে ওঠে প্রতিবার ঘনীভূত হয়ে তবে শেষে হলো নির্ভার।  বায়ু আনে প্রকৃতিতে তোড়জোড় গর্জন, এই কি বা বর্ষাতে হলো তব অর্জন? ডাক শুনে ধরাকূল কেঁদে হলো এ অাকূল, তবে হবে মোর ভুল,হয়তোবা তারা ভুল। গল্পের সমতায় আসে মৃদু সমীরণ, এইবারে আনো মেঘ সূর্যের সে কিরণ। পরদিন নভঃ মাঝে সবদিক সুনসান  নেই কথা নিরবতা শব্দের প্রস্থান।  রুদ্ধ এ প্রকৃতির যুদ্ধের শেষে,তাই সুর রেশ নেই হেথা,সুবাসের দেশে ধায়। কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান  ১৮/০৫/২৩,কোতোয়ালি Photo:pexels

অনিশ্চিতি

  মাগরিবেরই পড়ছে আযান,সূর্য ডুবে গেছে, নিসর্গ তাই নিরব সভায় দিচ্ছে ধ্বনি যেচে। সবুজঘেরা অরণ্যতে সভার কার্য শেষ, প্রকৃতির প্রাণের সখাও দান পেয়েছে বেশ। গাছ গাছালি,বৃক্ষ লতা, চলছে যেন ধীরে, বিকেল শেষে সন্ধ্যা হলো,ফিরবে তারা নীড়ে। আবছা আলোয় ফিরল যবে ক্লান্তি জাগে দেহে, নিত্যচেনা নিকুঞ্জ ওই,নিজের আপন গেহে। গাছের ঝাড়ও ঘুমের ঘোরে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়, ঝিঁঝিপোকা চলছে হেকে,সেতো থামার নয়। আঁধার বনের আবছা ছায়া, বৃক্ষরাও তো ঘুম, প্রান্তসীমায় খানিক হাওয়া দেয় বুলিয়ে চুম। গাছের পাতা উঠলো দুলে,কমলো ঘুমের রেশ, ঊর্ধ্বপানে তারার মেলায় বাড়ায় তার আবেশ। অচিনপুরের অচিন তারা,আবাস তাদের কোথা? আলোক বিলায় ধরার মাঝে,জাগায় আলোর সভা। দূরের পথে চলন তবু আঁধার তার সঙ্গে, বনের ছায়ায় যায় মিলিয়ে শুধুই তরঙ্গে। গাছগুলি কি দ্যায় পাহারা,শুধু রয় দাঁড়ায়? অসাড় তারই ডালগুলো ঠায় হাওয়াতে নাড়ায়। এতেক ভেবে ঘুম অচেতন বৃক্ষ ওঠে জেগে, গুল্ম,তাতে উঠলো নাচন,খানিক বাতাস লেগে। তরুলতার ক্লান্তি মিলায়,সজীব হলো প্রাণ; নতুন দিনের আগাম কথা,জাগলো নূতন গান। নিশিথেরই সময় রেখা গড়ায় তবে শেষে, মানব নামের যন্ত্রে দ্যাখো অনিশ্চিতি মেশে। ৪...

নীলাভ গ্রহের বাসিন্দা

  ১ আবছা নীলাভ বিন্দুটা ক্রমেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।আর মাত্র কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা।  তর সইছে না তার। স্প্রেরস্যুটটায় আবার চোখ বুলাল আমান। -নাহ,এবার ঠিকই আছে।  এতক্ষণে ক্লান্ত চোখ চারপাশে ঘুরতেই স্থির হলো তা টেবিলে রাখা একটি চশমাতে।আমান আনমনা হয়ে যায়। চশমাটা তুলে হাতে নেয় সে।পুরনো একটি চশমা, বছর দশেক আগের হবে হয়তো।আরো বেশিও হতে পারে, অবশ্য আর  পরার মতো অবস্থা নেই,নড়েবড়ে। বাবার স্মৃতি হিসেবে রাখা।পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্যে  বাবা এনেছিল এই উপহার।  একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল আমান,বাবাকে দেখা হচ্ছে না দশ বছর ধরে। তখন ছিল ২০৩৪ সাল। বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষিত জনগোষ্ঠী প্রস্তাব দেয় 'বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা' গঠনের।অর্থনীতিতে বাংলাদেশ মোটামুটি উন্নত রাষ্ট্রের দ্বারপ্রান্তে,এমন প্রেক্ষাপটে তাদের এ প্রস্তাব অবশ্য যৌক্তিক। জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় সরকারও মনোযোগী হয়। শেষপর্যন্ত গঠন হয় বাংলাদেশের নামে প্রথম মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। এই সংস্থার যুগান্তকারী পদক্ষেপ -উন্নত দেশসমূহের সাথে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ। শুক্র ও মঙ্গল গ্রহে জীবনের সন্ধানে কয়েকজন নভোচারী পাঠানো হবে।বাংলাদেশেও কতেক ...

যে শহরে কবিরা মরে যায়

  যে শহরে কবিরা মরে যায়,  সে শহরে মানুষ কিভাবে বাঁচে? ভাবলেশহীন চলন্ত রোবট কতগুলো যেথা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।  সে শহরে কি মানুষ বাঁচে, যেথা আছে শুধু মানসিকতার দাসত্ব?  চাকচিক্যের বর্ণনায় ক্লান্ত আর ক্লান্ত আমরা– মানবিকতা দিয়েছি বর্গাচাষীর কাছে। যে শহরে যাপিত জীবন কেবল যন্ত্র-যন্ত্র খেলে, সে শহর রঙিন, হয় মুখরিত, অর্থ মন্ত্র পেলে। রঙিন তবুও নয়– সাদাকালো, জীবনের দেখা ছাঁচে।  এখন আর কেউ হয়না কবি, কবিতায় আনে যেন মৃত্যু,  রঙিন ফুলের সুবাসে পাখিরা সেই সে কবে, কিচিরমিচির করে ডেকেছিল গাছে গাছে।  যে শহরে কবিরা মরে যায়,  সে শহরে কি মানুষেরা আর বাঁচে? বঞ্চিত হৃদে হাহাকার ধ্বনি আর ধূর্তরা শুধু নাচে। মানুষ যেন মানুষ নয়কো,মানুষ শুধুই নামে, তবে কবিরাও চলবে কি স্বার্থের পিছু পিছু? কবিতার তরে এতই অবজ্ঞা! আস্তাকুঁড়েই যাও, তব কাঙ্ক্ষিত পরজীবীদের পাছে পাছে। সে শহরে কি কবিরা বাঁচে যেথা মানুষই অনস্তিত্ব?  নয়? তবে,তা হবে শীঘ্রই  যদি হৃদয় না রয় কাছে। কবির লাশের উপর দিও তখন  ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফুল, হেরে তায় শরতের সাদা মেঘও হবে বিহ্বল; দিও ফিরিয়ে তারে আদিম আবাসে, মুগ্ধত...

বখশিশ

 ঈদের খুশি বাড়বে দ্বিগুণ করবে যবে দান ঈদের আমেজ দাও ছড়িয়ে হাসুক তবে প্রাণ। মেঘের রাজ্যে আকাশ যেমন প্রার্থী হয়ে রয়, ঈদের খুশি আনুক তেমন হৃদয়ে বিনয়। রোজার শেষে ঈদ এনে দেয় প্রীতির কেমন সুর? দিগন্তে ওই আলোর আভায় আনে যেমন ভোর। এমন আলোয় সাম্য দেখায় জাগাও তব হৃদ, শান্তিবার্তা দাও ছড়িয়ে রাঙাও এবার ঈদ। লেখাঃ কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান 

নজরুল কে?

 নজরুল কে? নজরুল কে? সত্য হাঁকে, ছন্দের বাঁকে কবিতার আঁকে। চিত্ত চঞ্চল, জ্বালাময়ী কবি যার কবিতা আলোকিত রবি, বিদ্বেষী,দ্রোহময়,অন্যায়-অজাচার বিদ্রোহী কবিতায় জ্বলে ছারখার।। জালিমের জুলুম থামবে কি কভু? বিদ্বেষী তরে বিদ্রোহী তবু।। হে নজরুল!! কখন রুদ্ধ?করেছ যুদ্ধ, কামান থেমে থেমে ডাকে; তারি সাথে করেছ খতম, কলমের ঐ আঁকে।। হ্যা,সত্যের-শান্তির পথ আঁকে, তব কলমে কালির রেখা অবশ্যই, অবশ্যই নজরুল সে কবিতার লেখা। হে বিদ্রোহী কবি!! বিদ্বেষীদের ভেঙে দাও সব বাঁধ, শান্তির পরশে সাম্যবাদী মিটাও মনের সাধ।। লেখকঃ নাহিয়ান 

ধূপছায়া

  সকাল সাঁঝে ভ্রমণরত উত্তরেতে বায়, "শীত এসেছে",বলল তারা-"জানান দিয়ে যাই"।  আঁৎকে উঠে বলি আমি, শীতের আগমন?  দাঁত কপাটি কাঁপায় আমার,ঠান্ডা যে কনকন।।  শীতে বেজায় ঠান্ডা হাওয়া, ধাওয়া করে মাঠ- কুহেলিকার চাদর সেথা, বিলায় অস্তপাট।। গিরির এমন আবছা ছায়া দেখায়নি তো কেউ- শীতের তরে পেলাম দেখা অপূর্ব এই ঢেউ।।  শীতের সূর্য রঙিন করে নবীন তরুর দেশ, ফুলে ফুলে পাখির ভ্রমণ মুগ্ধ করে বেশ।।  সূর্য কিরণ ক্লান্ত হয়ে বিকেল ফিরে  যায়,  আবির ছড়ায় লালচে আভা,প্রভুর এই দয়ায়।। রহস্যরা নতুন করে জাগে শীতে খুব - রাত্রিশেষের হয়ত কায়া ছায়ার মাঝেই ধূপ।। ©কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান 

পথিকৃৎ

 পথিকৃৎ  চলিছে পথিক,তিমির রাত্রি, একেলা নিঝুম পথে চক্ষু তাহার ভ্রমিতেছে হায়, মুসাফির মুসিবতে ।। পথের প্রান্তরে শেয়ালের ডাক, নিশিথে দানিল ভয়, ভয়ার্ত পথিক চলিছে কাঁপিয়া তবু,মানে নাই পরাজয়।। পান্থ দেখিল পথেরি পাশে আঁকা-বাঁকা মোড় কত, দিশাহীন পথে ছুটিবে কোথায়? বাঁধা যেথা অবিরত ।। দূরপথ রেখা,পাইল না দেখা; নাই কেন কোন আলো, ঘনিয়াছে যেন আমাবস্যার রাত, চারদিকে ঘোর কালো।। মেঠোপথ পাশে বায়ে শত মোড়, ডানে দেখে সোজা হেথা, বিষাদগ্রস্থ পথিকের বুকে তাই বিধিঁল ভয়ের ব্যাথা।। সহসা তন্দ্রা লাগিল নেত্রে,  শক্তি   পাইল   বুকে; "হস্তে প্রদীপ,আলোকিত তায় " হেরিল সে একোন লোকে? এবার ঘুম ছুটিয়া পালাইল, চক্ষু  উঠিল  জাগি, দিগন্তে কোন প্রদীপ চিহ্ন দিশা দিল তার লাগি? অদূরে পথিকৃতের প্রদীপ দিশা দেয় যেই আলো, সে আলোয় পথিক খুজে পেল পথ পেল সত্যের সব ভালো।।  নকশা মেলিয়া, খানিক দুলিয়া  হেরিল সেঁ পথিক পানে, চাঁদহীন রাতে তারকারা সব জ্বলে ওঠে আসমানে।। পথিকৃৎ যেন বলিল তাহাকে এসো এসো এই দিকে- সত্যের পথ,সাম্যের পথ- শান্তিচিহ্ন লিখে।। পথিকৃতের পদধ্বনি শুনি, পথিক ছুটিয়া চলে চির- ...

মুসলিম হাই স্কুলের গরবগাথা

  মুসলিম হাই স্কুলের গরবগাথা মুসলিম হাই স্কুলের ছাত্ররা আজ আনন্দে উন্মুখ,  বিদ্যালয়ের অঙ্গনে তাই জাগায় মনে সুখ। এতদিন তো যায় নি শোনা,কলধ্বনির ধারা, এসে দেখো সেই খুশিতে সবাই বাঁধনহারা। পাতায়- খাতায় স্মৃতি জাগে,প্রাঙ্গনে আর মাঠে, ধূলাবালি হুল্লোড়ে আর পড়ার আদায় পাঠে। প্রকৃতির হাঁক জুড়ে যায় আমাদের স্কুলে, তাই তো কভু রাগ করিনি পড়তে গেলে ভুলে। সকাল বেলায় আসি মোরা দুপুর শেষেই ফিরি, না গোনা এই ধাপে যত দীঘল মত সিঁড়ি। আজকে সেই রূপ দেখে তাই প্রাণের জোয়ার ধায়। চিরচেনা পরিবেশে ফিরেছে সদায়। শিক্ষকদের মাণ্য করি, স্মৃরি তাদের দান, স্নেহের স্মৃতি,হৃদয় মাঝে শ্রদ্ধা ও সম্মান। মুসলিম হাই স্কুলের গরব গাথা শেষ কি কভু হবে? আসব সকল হতচ্ছাড়া; প্রমাণ করেই তবে। লেখাঃকাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান .

খোঁজ নেই

শূণ্যতা এসে ঘিরে চারিধারে মন ছুটে যেদিকেই; হৃদয়ের মাঝে যে কাব্য ছিল তার কোনো খোঁজ নেই। বারে বারে খুঁজি, তার সব স্মৃতি  তবু দেখি নেই সে, বিস্মৃতি বলে সব রীতি ভুল,  মিলবে না তার দিশে। কবিতার লেখা পথ ভুলে যায় মন হলে বিচলিত, নিখোঁজ এমনি তার সব তান, সেই কেন অবারিত। শূন্যতা আনে বিরহের সুর মনে তাই বারবার  অপার বিষাদে আনে ক্রন্দন  হৃদয়েের চারিধার। ✍️:নাহিয়ান